
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার ছায়া তদন্তে উঠে এসেছে যে, এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের ছেলে সালমান জড়িত থাকতে পারেন।
তদন্তে মোড় পরিবর্তন: গুলির পজিশন বিশ্লেষণ
শুরুতে ফয়সাল ও আলমগীরকে প্রধান সন্দেহভাজন মনে করা হলেও ডিবির বিশ্লেষণে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসে। ওসমান হাদীর বাম কানের নিচে গুলি লেগেছিল, অথচ সিসিটিভি ফুটেজে ফয়সালদের মোটরসাইকেলটি হাদীর রিকশার ডান পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। এই অসঙ্গতি থেকে গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয় যে, ঘাতক রিকশাতেই তার পাশে ছিল।
সহযোগী মিসবাহর সন্দেহজনক ভূমিকা
হাদীর সাথে একই রিকশায় থাকা এবং তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা সহযোগী মিসবাহকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় ডিবি। ঘটনার পরপরই মিসবাহকে একটি লাইভ ভিডিওতে কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে দায়ী করতে দেখা যায়, যা গোয়েন্দাদের কাছে পরিকল্পিত ধোঁয়াশা সৃষ্টির চেষ্টা মনে হয়।
ডিবির কাছে মিসবাহর স্বীকারোক্তি
ডিবি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে মিসবাহ স্বীকার করেছেন:
* তিনি নিজে একজন শিবির কর্মী এবং হাদীকে সরাসরি তিনিই শ্যুট করেছেন।
* মোটরসাইকেলে থাকা ফয়সালের কাজ ছিল মূলত 'ব্যাকআপ' দেওয়া এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা।
* হাদীর ওপর নজরদারি ও তাকে হত্যার নির্দেশ সরাসরি জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ারের ছেলে সালমানের পক্ষ থেকে এসেছিল।
প্রভাব খাটিয়ে আসামী ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ
তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, মিসবাহ ডিবি হেফাজতে থাকার খবর পেয়ে সালমান এবং শিবিরের তৎকালীন ঢাবি সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তারা তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে মিসবাহকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মাস্টারমাইন্ড আড়ালের চেষ্টা
ইনকিলাব মঞ্চের ঢাবি মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমার দাবি অনুযায়ী, পরিকল্পনাকারীরা হাদীর জানাজার প্রথম কাতারেই উপস্থিত ছিল। ডিবি কর্মকর্তাদের মতে, দাফনের সময় সালমানের কান্নার দৃশ্যটিও ছিল মূলত অপরাধ আড়ালের একটি কৌশল। বর্তমানে এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের কারণে তদন্তের স্বাভাবিক গতি থমকে আছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে।