
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের জীবনে নেমে এসেছে এক চরম মানবিক বিপর্যয়। আদালতের জামিন সত্ত্বেও মুক্তি না মেলা এবং জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতারের ধারাবাহিকতায় সৃষ্ট মানসিক চাপ সইতে না পেরে সাদ্দামের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। এমনকি স্ত্রীর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার অভিযোগ জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক মামলায় দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকা সাদ্দাম হোসেনের জামিন মঞ্জুর হয় কয়েক মাস আগে। কিন্তু কারাগার থেকে বের হওয়ার মুহূর্তেই এসপি হাসান চৌধুরীর নির্দেশে তাকে বারবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। এই "গেট অ্যারেস্ট" বা জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতারের ঘটনায় সাদ্দামের পরিবারে চরম হতাশা নেমে আসে।
স্বামীর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সাদ্দামের স্ত্রী দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তা, আইনি লড়াইয়ের ব্যয়ভার এবং মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। সাদ্দামকে বারবার অন্যায়ভাবে আটকে রাখাই এই অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ।
সাদ্দামের স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এসপি হাসান চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপে সেই আবেদন কার্যকর হতে দেওয়া হয়নি। ফলে নিজের স্ত্রীর জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারেননি সাদ্দাম।
এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একজন বন্দির আইনি অধিকার এবং নূন্যতম মানবিক মর্যাদা এভাবে ভূলুণ্ঠিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে উচ্চ আদালত জামিন দিচ্ছেন, সেখানে কার নির্দেশে বা কোন আইনে একজন ব্যক্তিকে বারবার জেলগেট থেকে গ্রেফতার করা হচ্ছে? তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করেছেন।