
বাংলাদেশের নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ভারতের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন বা রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ভিনদেশি রাষ্ট্রের নেতিবাচক বা অযাচিত মন্তব্য করার অধিকার নেই।
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় একটি সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন:
"বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমাদের দেশে কখন নির্বাচন হবে বা কীভাবে রাষ্ট্র সংস্কার হবে, সেটি একান্তই আমাদের জনগণের ম্যান্ডেটের বিষয়। ভারতের উচিত প্রতিবেশীর সাথে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো থেকে বিরত থাকা।"
সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্ব: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জোর দিয়ে বলেন যে, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে জনগণের ইচ্ছাই শেষ কথা। বিদেশি কোনো শক্তির এখানে খবরদারি করার সুযোগ নেই।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা: তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, কিন্তু সেটি হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। একতরফা কোনো মন্তব্য বা চাপ সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়।
নির্বাচনী রূপরেখা: নির্বাচন নিয়ে ভারতের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় ভারতীয় কোনো এজেন্ডা বা মাতবরি গ্রহণযোগ্য নয়।
উপদেষ্টার এই মন্তব্যকে দেশের রাজনৈতিক মহলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বর্তমান সরকার একটি অযাচিত সিদ্ধান্ত। অনতিবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহের আহবান জানান।