
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের আলোচিত ব্যক্তি জসিমের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর সব অভিযোগ। মাদক দমনের ‘নাটক’ করলেও রাতের আঁধারে তিনি নিজেই মত্ত থাকেন নেশায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জসিম ও তার পালিত ‘আইন্সির পোলা’ বাহিনী এবং নিজস্ব গুণ্ডা ক্যাডারদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক নির্মূলের কথা বলে জসিম নিজেই ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যে আসক্ত। রাত বাড়লেই তার আসল রূপ প্রকাশ পায়। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি দলবল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ মাসোহারা ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। যারা তাকে টাকা দিতে অস্বীকার করে, কেবল তাদের ধরার জন্যই তিনি রাতে মহড়া দেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ে। বিনা অনুমতিতে গভীর রাতে মানুষের বাড়িতে প্রবেশ করে তছনছ করা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা জসিমের বাহিনীর নিত্যনৈমিত্তিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষায় "সে আইনের লোক না হয়েও যেভাবে মানুষের ঘরে ঢুকে '১৩ টা বাজাচ্ছে', তাতে আমরা নিজেদের বাড়িতেই নিরাপদ বোধ করছি না। এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় আইন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।"
আতঙ্কে এলাকাবাসী, নেপথ্যে ‘আইন্সির পোলা’ বাহিনী
জসিমের এই অপকর্মে প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছে তার বিশ্বস্ত ‘আইন্সির পোলা’ বাহিনী ও একদল চিহ্নিত গুণ্ডা। তাদের ভয়ে নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, জসিম নিজে মাদক সেবন করে অন্য মাদক কারবারিদের ধরার ভয় দেখিয়ে মূলত চাঁদাবাজির একটি রাজত্ব কায়েম করেছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়।
আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সমান্তরাল শাসন চালানোর এই প্রচেষ্টাকে আইনবহির্ভূত বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একজন মাদক সেবনকারী হয়ে অন্যকে ধরার নামে এই ‘নাটক’ বন্ধ করতে এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বুড়িচংয়ের ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।