
দেশে হামের প্রকোপে গত কয়েক মাসে প্রাণ হারিয়েছে তিন শতাধিক শিশু। যখন একের পর এক অবোধ শিশুর মৃত্যুতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে, তখন এক সময়ের প্রভাবশালী মহলের ‘বিলাসিতা’ ও উদাসীনতাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অভিশাপ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন সাধারণ মানুষ। জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিকে স্মরণ করে অনেকেই বলছেন, যারা ক্ষমতার মসনদে থেকে বিলাসিতায় মত্ত ছিল, আজ তাদের পাপের ফল ভোগ করছে সাধারণ জনপদ।
মৃত্যুর মিছিলে ৩০০ শিশু:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনানুষ্ঠানিক তথ্য ও বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সঠিক সময়ে টিকাদান কর্মসূচির অভাব এবং পুষ্টিহীনতার কারণে হাম মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে না পারায় মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ৩০০-এর বেশি শিশুর অকাল মৃত্যু দেশের স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর দশাকে আবারও নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে।
‘বিলাসিতা’ বনাম জনরোষ:
সামাজিক মাধ্যমে এই করুণ মৃত্যুকে ঘিরে চলছে তীব্র সমালোচনা। নেটিজেনদের দাবি, জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে যখন রাজপথ প্রকম্পিত হচ্ছিল, তখন তৎকালীন ক্ষমতাশীনরা জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের ভোগ-বিলাস আর আরাম-আয়েশে ব্যস্ত ছিলেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন, "খাট কাঁপানো বিলাসিতায় যারা মত্ত ছিল, আজ তাদের অবহেলার অভিশাপ আসমান কাঁপানো আর্তনাদ হয়ে ফিরে আসছে।
জুলাই বিপ্লবের সেই বিতর্কিত চরিত্রগুলোকে ইঙ্গিত করে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ ঝাড়ছেন। তাদের মতে, জুলাইয়ের সেই ‘খালা’ বা ক্ষমতা দম্ভকারীরা যখন নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল, তখন দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য আমূল বদলে দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ নষ্ট হওয়ায় আজ দেশের শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রাণ দিচ্ছে।
"ক্ষমতার দম্ভ আসমান কাঁপাতে না পারলেও, আজ শত শত মায়ের বুক ফাঁটা আর্তনাদ ঠিকই আসমান কাঁপিয়ে তুলছে।" — একজন সাধারণ নাগরিকের মন্তব্য।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের এই ভয়াবহতা রুখতে অবিলম্বে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা পটপরিবর্তনের দোহাই দিয়ে শিশুদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে।