
দেশের চলমান সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ করেই মাঠে মোতায়েন থাকা সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপ্রধান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এতদিন রাজপথে সেনাবাহিনীর সরব উপস্থিতি থাকলেও, এই নতুন নির্দেশনার ফলে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সেনাপ্রধানের এই ঘোষণার পরপরই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে বিরোধী শিবিরগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি’র শীর্ষ নেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। তবে সম্প্রতি সেনাসদরের এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে সেনাপ্রধান জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তাই বেসামরিক প্রশাসনের কাজে সহায়তা শেষে এবার নিয়মিত কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, "সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তায় বদ্ধপরিকর। তবে বেসামরিক প্রশাসন এখন নিজ উদ্যোগে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম।"
সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফেরার খবরে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজপথে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বিরোধী দলগুলোর জন্য এক ধরণের 'নিরাপত্তা বলয়' হিসেবে কাজ করছিল, যা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে সাহস জুগিয়েছিল।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, সেনাবাহিনী মাঠে না থাকলে শাসকগোষ্ঠী বা তাদের মদদপুষ্ট অঙ্গসংগঠনগুলো আবারও বিরোধী দলের ওপর চড়াও হতে পারে। দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে গেলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।"
জামায়াতে ইসলামীর ভেতরেও এই নির্দেশনায় চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কার্যক্রমে আবারও বাধা আসতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতি-উৎসাহী সদস্যরা রাজনৈতিক হয়রানি বাড়াতে পারে বলে দলটির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এনসিপি (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি/সমমনা জোট) নেতারা এই সিদ্ধান্তকে 'অসময়ের পদক্ষেপ' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, দেশে এখনও পরিপূর্ণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। এমন অবস্থায় সেনাপ্রত্যাহার রাজনৈতিক সংঘাতকে আবারও উসকে দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি নিরপেক্ষ আস্থার জায়গা তৈরি করেছিল। এখন তাদের ব্যারাকে ফেরার নির্দেশে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র মতো দলগুলো নিজেদের অস্তিত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করতে বাধ্য হচ্ছে।
সেনাবাহিনী পুরোপুরি ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর। বিরোধী দলগুলো কি নতুন কোনো কৌশলে রাজপথে নামবে, নাকি সরকারি দল আবারও মাঠের নিয়ন্ত্রণ একচ্ছত্রভাবে নিজেদের হাতে তুলে নেবে—তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত বিরোধী শিবিরের 'ঘুম হারাম' অবস্থা যে সহজে কাটছে না, তা বেশ স্পষ্ট।