
ঝিনাইদহে জুমআর নামাজ শেষে বের হওয়ার পরপরই ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় অন্তত তিনজনের মাথা ফেটে গেছে এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এনসিপি'র অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এনসিপি'র মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা জেলা প্রশাসকের বাসভবনের বিপরীতে অবস্থিত পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রথমে ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভীতির সৃষ্টি করে। এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা শুরু করে।
হামলায় তিনজনের মাথা ফেটে যায় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
নসিপি'র মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়। মারধরের পাশাপাশি হামলাকারীরা নেতাকর্মীদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলাকারীদের বিএনপির 'সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ' আখ্যা দিয়ে বলেন, পুলিশের সামনেই এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।
হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা চেয়ে এবং আইনি ব্যবস্থা নিতে এনসিপি'র নেতাকর্মীরা বর্তমানে স্থানীয় থানায় অবস্থান করছেন। তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আবারও থানার সামনে সংঘবদ্ধ হয়ে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে থানা এলাকা ও আশেপাশে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।