নিজস্ব প্রতিবেদক: 5 March 2026 , 6:31:21 প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ৫ মার্চ, ২০২৬
আসন্ন গ্রীষ্মকাল সামনে রেখে দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিবে।
ভারতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি আদানি গ্রুপের বকেয়া পাওনা পরিশোধ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে আগামী দিনগুলোতে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৮,৫০০ কোটি টাকা) ছাড়িয়েছে। যদিও ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার
এক টাকাও পরিশোধ করেন নি।
আদানি গ্রুপ বারবার সতর্ক করেছে যে, বকেয়া পরিশোধ না করলে কয়লা আমদানির অভাবে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হবে। ইতিমধ্যে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা কেন্দ্র থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ১৬০০ মেগাওয়াট থেকে কমিয়ে প্রায় অর্ধেক করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এই সময়ে দেশে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৬,৫০০ থেকে ১৭,০০০ মেগাওয়াট।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার বকেয়া মেটানোর জন্য বিশেষ বন্ড ইস্যু এবং রিজার্ভ থেকে বাড়তি ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম তামিম বলেন, “আদানির বকেয়া দ্রুত মেটানো না গেলে এবং দেশীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য জ্বালানি (গ্যাস ও কয়লা) নিশ্চিত করতে না পারলে, এই গ্রীষ্মে দেশের শিল্প উৎপাদন ও জনজীবন মারাত্মক লোডশেডিংয়ের মুখে পড়বে।”
রাজধানীসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে আদানির বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। সরবরাহ কমলে এসব এলাকায় ঘণ্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেচ মৌসুমে কৃষকদের জন্যও এই বিদ্যুৎ সংকট বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

















