সারাদেশ

মাগুরায় প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ‘বৈষম্যবিরোধী’ দুই নেতা গ্রেপ্তার

  ডেস্ক রিপোর্ট : 8 January 2026 , 10:04:31 প্রিন্ট সংস্করণ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ইন্টারনেটে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে (৩০) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার দিবাগত রাতের এ ঘটনায় মঙ্গলবার চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন ওই নারী। গতকাল বুধবার মামলার আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার চার আসামি হলেন মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের মো. সিজান মাহমুদ (২০), নাফিজ আহম্মেদ (২২), রুবেল শেখ (২৪) ও মো. সুমন শেখ (২৫)। তাঁদের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর আসামি সিজান মাহমুদ ও নাফিজ আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা দুজনই গত বছরের ২০ এপ্রিল ঘোষিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মহম্মদপুর উপজেলা কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র ছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাগুরা জেলার আহ্বায়ক সেলিম দাবি করেছেন, ‘যে কমিটিতে তাঁদের নাম এসেছিল, মাত্র দুই দিনের মাথায় সেই কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই কমিটির কোনো বৈধতা নেই।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে চাকরি করেন। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে কাজ শেষে কারখানার গাড়িতে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। বাস থেকে নামার পর আসামি পূর্বপরিচিত সিজান মাহমুদ ওই নারীর মুঠোফোনে ফোন করে দেখা করেন। তখন অন্য তিন আসামি তাঁদের ঘিরে ধরেন। এ সময় আসামি সিজান মাহমুদকে ভুক্তভোগী নারীর পাশে দাঁড় করিয়ে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন আসামি নাফিজ আহম্মেদ। ওই ভিডিও ইন্টারনেটসহ গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চার আসামি তাঁকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
গ্রেপ্তার দুই আসামি কারাগারে ও অন্য দুজন পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত)  বলেন, ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ওই দিন পরিহিত কাপড়চোপড় সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী ও আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও খবর

Sponsered content