Uncategorized

ওয়াকার সাহেব গণমাধ্যমকে ভয় পান কেন? লুকানোর মতো কি অনেক কিছু আছে?

  নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা: 8 February 2026 , 6:20:31 প্রিন্ট সংস্করণ

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমকে বলা হয় চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সেই স্তম্ভের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে। গতকাল ‘বাংলাদেশ টাইমস’ কার্যালয় থেকে ২১ জন সাংবাদিক ও স্টাফকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যদিও পরবর্তী সময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—এই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে।

সংবাদে যদি কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকে, তবে তা নিরসনের জন্য দেশে সুনির্দিষ্ট আইন ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
প্রেস কাউন্সিল: সংবাদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেখানে অভিযোগ করার সুযোগ আছে।
আইনি নোটিশ: কোনো সংবাদে মানহানি হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আইনি নোটিশ পাঠাতে পারেন।
প্রতিবাদ লিপি: সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাদের বক্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারেন যা ছাপানো সংবাদপত্রের নৈতিক দায়িত্ব।
এই নিয়মতান্ত্রিক পথগুলো পরিহার করে সরাসরি বাহিনীর মাধ্যমে সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে যাওয়াকে বিশ্লেষকরা “ভয় দেখানোর সংস্কৃতি” হিসেবে দেখছেন।

দেশের সংবিধানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে যখন অবাধ তথ্যপ্রবাহ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন চাপ প্রয়োগ হিতে বিপরীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষ একটি বৈষম্যহীন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে সবার জন্য সমান। সেনাপ্রধান বা অন্য কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সমালোচনা করা যাবে না—এমন সংস্কৃতি একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কাম্য নয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ রয়েছে, যা প্রকাশ করা নাগরিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

আজ যদি সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করা হয়, তবে কাল সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং কলম সচল রাখা এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্র যেন কোনোভাবেই নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর “বর্গা নেওয়া সম্পত্তি” না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব জনগণেরই।

আরও খবর

Sponsered content