আইন-আদালত

কুমিল্লা আদালতে কায়মুল হক রিংকুর পেশিশক্তির মহড়া: প্রশ্নের মুখে বিচারিক পরিবেশ

  অনুসন্ধান প্রতিবেদন : 31 March 2026 , 1:30:00 প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে অস্থিরতার ছায়া নেমে এসেছে। সম্প্রতি আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের হুমকি প্রদান, মতপ্রকাশে বাধা এবং বহিরাগতদের এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন কায়মুল হক রিংকু। স্থানীয় সচেতন মহল এবং আইনজীবী সমাজের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে লোকবল ব্যবহার করে ন্যায়বিচারের প্রতীক আদালতকে কলুষিত করার চেষ্টা চলছে।

ভাড়াটে লোকবল ও আদালত অবমাননার অভিযোগ, প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আজ কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে কায়মুল হক রিংকুর প্রত্যক্ষ ইন্ধনে একদল বহিরাগত ব্যক্তি প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, আবু রায়হানসহ রিংকুর অনুসারীরা অর্থের বিনিময়ে ‘এনসিপি’ বা ভাড়াটে লোক জড়ো করে আইনজীবীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। আইনজীবীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের কারণে সাধারণ আইনজীবীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অতীতের বিতর্ক ও বর্তমান প্রেক্ষাপট, স্থানীয়দের মতে, কায়মুল হক রিংকু ও সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর পিতা সাজেদুল হক মোক্তার মিয়াকে ঘিরে পুরনো যে সব বিতর্ক ছিল, রিংকুর বর্তমান কর্মকাণ্ড যেন তারই ধারাবাহিকতা। রিংকুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মামলা বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আদালতের মতো একটি পবিত্র স্থানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিবেশ অস্থিতিশীল করাকে কুমিল্লার জন্য ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করছেন জ্যেষ্ঠ নাগরিকরা।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, শিব নারায়ণ দাস এবং আলী আহমেদের মতো বরেণ্য ব্যক্তিদের স্মৃতিবিজড়িত এই কুমিল্লায় বর্তমানে ভয় ও দুর্নীতির দাপট নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে সাহস আর সততা ছিল কুমিল্লার পরিচয়, সেখানে আজ এক শ্রেণির মানুষের পেশিশক্তির মহড়া সাধারণ মানুষকে হতাশ করছে।
আদালত প্রাঙ্গণে এই অরাজকতা নিয়ে এখন একটাই প্রশ্ন— কুমিল্লার সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিজ্ঞ আইনজীবীগণ কি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন, নাকি নীরবতার আড়ালে এই অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেবেন?

আরও খবর

Sponsered content