ডেস্ক রিপোর্ট : 6 April 2026 , 10:01:15 প্রিন্ট সংস্করণ
তেল নেই, সত্যও নেই, মিডিয়ার মিথ্যার ফুলঝুড়ি : বিপদে বাংলাদেশ!
দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে হাহাকার বেড়েই চলেছে। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন আর সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও গণমাধ্যমগুলো প্রচার করছে ভিন্ন কথা। সরকারি ভাষ্যমতে তেলের মজুদ পর্যাপ্ত থাকলেও বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশে তেলবাহী জাহাজ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইরান, যা সুকৌশলে গোপন করা হচ্ছে জনরোষের ভয়ে।
কেন তেল আসছে না? ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচে বাংলাদেশ
সূত্রমতে, ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বাংলাদেশকে তাদের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে এবং নিন্দাপ্রস্তাবে সই করতে হবে। বিশেষ করে মার্কিন প্রভাব বলয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ইরান ভালোভাবে নেয়নি। ইরানি রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এর ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও মূলধারার মিডিয়া তা এড়িয়ে গিয়ে কেবল “বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের কষ্ট পাওয়ার” কথা প্রচার করেছে। মূলত চীন-রাশিয়া-ইরান অক্ষশক্তিকে সমর্থন না দিলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল আসা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
ভর্তুকির গোলকধাঁধা ও সরকারের কৌশল, ইতিমধ্যে সরকার ১৬০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তবে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে চাল-ডালে ভর্তুকি দিতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে হঠাৎ তেলে বিশাল ভর্তুকির উৎস কী? অভিযোগ উঠছে, সরবরাহ সচল আছে—এটি বোঝাতেই ভর্তুকির নাটক সাজানো হচ্ছে, অথচ পাম্পগুলো তেলশূন্য। ব্যবসায়ীরা তেল মজুদ করছে বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা-ও অমূলক; কারণ তাদের কাছে বিক্রয়যোগ্য কোনো পণ্যই পৌঁছাচ্ছে না।
বিকল্প পথে তেল আসার খবর কি স্রেফ গুজব?
সম্প্রতি কাজাখস্তান থেকে তেল আসা কিংবা বিকল্প পথে এক লাখ ব্যারেল তেল পৌঁছানোর খবর চাউর হলেও বন্দরের তথ্যে এর কোনো সত্যতা মেলেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অনুমোদিত পুরোনো ট্যাংকার ছাড়া নতুন কোনো সরবরাহ বন্দরে ভিড়েনি। বিপরীতে, পশ্চিমা সিগন্যালের আশায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে রদবদল এবং রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে, তাকে “রেজিম” রক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিরোধী দলের নীরবতা ও ঘনিয়ে আসা বিপদ, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম ৮০টি আসন নিয়েও জামাত-এনসিপি জোট জ্বালানি সংকটের মতো জাতীয় ইস্যুতে সংসদে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। “গৃহপালিত বিরোধী দল” হিসেবে তাদের এই আচরণ জনমনে সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। এদিকে খোদ সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মুখে “৭১-এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতির” আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মে মাসের মধ্যে এই সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
মিডিয়ার ভূমিকা ও জনগণের বিভ্রান্তি, বিবিসি থেকে শুরু করে স্থানীয় মিডিয়াগুলো এই সংকটকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করছে। যেখানে মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে পারছে না, সেখানে “পেইড নিউজ” প্রচার করে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কঠোর বাস্তব এটাই যে, সরকার যদি দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানিতে ব্যর্থ হয় এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণে পিছিয়ে থাকে, তবে দেশে এক ভয়াবহ অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে।

















