সারাদেশ

সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর যোগসূত্র, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলার শঙ্কা

  নিজস্ব প্রতিবেদক: 25 April 2026 , 8:28:03 130 ভিউ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর ধারাবাহিকতায় এবার দেশের একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে দুই সাবেক সেনা সদস্যের যোগসূত্র গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ পুলিশ।

 গোপন নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য, এক গোপন নথির বরাতে জানা যায়, ইস্তিয়াক আহমেদ (ওরফে সামি, আবু বকর, আবু মোহাম্মদ) নামের এক ব্যক্তি বহিষ্কৃত দুই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এই ঘটনা জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনীর কিছু সদস্যের ব্যক্তিগত যোগাযোগের মারাত্মক ইঙ্গিত দেয়।

 টার্গেটে সংসদ ভবন, উপাসনালয় ও অস্ত্রাগার, ২৩ এপ্রিলের একটি অতি গোপনীয় নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দেশে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো জাতীয় সংসদ ভবন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র এবং শাহবাগ এলাকার মতো “গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায়” হামলার ছক কষছে। হামলায় বোমাসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। এছাড়া, বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারেও হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিমান ঘাঁটিতে অভিযান ও ধরপাকড়, গত ৮–৯ দিনে বিমান বাহিনী ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অন্তত তিনটি ঘাঁটিতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে দুইজন স্কোয়াড্রন লিডারসহ বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও আরও প্রায় এক ডজন বিমানসেনাকে আটক করা হয়েছে।
বিদেশে পালিয়েছে বেশ কয়েকজন সদস্য, জানা গেছে, ধরপাকড়ের মাঝে ১০–১২ জন সদস্য বর্তমানে পলাতক। পলাতকদের মধ্যে অন্তত চারজন ইতিমধ্যে পাকিস্তান, তুরস্ক, নিউজিল্যান্ড ও পর্তুগালে পালিয়ে গেছে। বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে টিটিপি-এর এই যোগাযোগের ঘটনায় দেশের প্রতিরক্ষা খাতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও জঙ্গিদের এমন কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা এখন নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পুলিশ দেশের সকল থানাকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে নতুন সন্দেহভাজনদের নাম
ইস্তিয়াক আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ আরও কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য উদ্ধার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরও দুই সন্দেহভাজনের পরিচয় পাওয়া গেছে: মোহাম্মদ রাহেদ হোসেন মাহেদ: সিলেটের বাসিন্দা। তিনি দাশঘর এন ইউ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
মোহাম্মদ রাকিব হাসান (ওরফে উবাইদা আল উসামা),  ঢাকার ধামরাই থানার শিয়ালকুল চড়দেলধা গ্রামের বাসিন্দা। গোপন সূত্রে জানা যায়, রাকিব বর্তমানে সাভার ক্যান্টনমেন্টের অধীনে বসুন্ধরা টেক এলাকায় বসবাস করেন এবং একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ গ্রামের বাড়িতে যাননি।

আরও খবর

জুলাইয়ের আলোচিত জঙ্গি  সুরভির করুণ দশা: গরম দু”ধে হাত লেগে হাহাকার! ব্যথায় ‘ওফ’ বলে উঠলেন জঙ্গি  সুরভি!

রাজনীতির নতুন সমীকরণ মাহমুদুর রহমানের ‘আমার দেশ’ ও ভিনদেশি গোয়েন্দা সংস্থার ছায়া, হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র—সরকার কি নীরব থাকবে?

ইউনুসের সাথে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ফিরে গেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর

অভিনন্দনবার্তার আড়ালে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি? ড. ইউনূসের ‘গোপন চুক্তি’ নিয়ে তারেক রহমানের কপালে চিন্তার ভাঁজ

স্বাধীনতা দিবস পালন বিঘ্ন করা জন্য, দৌলতদিয়া দুর্ঘটনায় বিএনপি জড়িত দাবি -জামায়াতের আমিরের

বাংলাদেশের সকল ক্যান্টনমেন্টে জঙ্গি হামলার ছক শিবিরের গোঁপন বৈঠক

Sponsered content