জাতীয়

জবাব না দিলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বাস্থ্য প্রশাসনের গলার ফাঁস ‘টিকা বিতর্ক’, আন্তর্জাতিক নোটিশ গিলে বসে আছে সরকার!

  ডেস্ক রিপোর্ট: 31 March 2026 , 11:08:26 প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসে নজিরবিহীন এক কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে গেছে। “বিগত ৮ বছর দেশে হামের টিকা দেওয়া হয়নি”—স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বিতর্কিত ও তথ্যহীন বক্তব্যের জেরে গত ২ দিন আগে কঠোর ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ ও ‘জরুরি তলব’ পাঠিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফ (UNICEF)। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই আন্তর্জাতিক নোটিশটি বর্তমান সরকার জনসমক্ষে গোপন রাখলেও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI) সেই তথ্যের জাল ছিঁড়ে সত্য প্রকাশ করে দিয়েছে।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব না দিলে কঠোর ব্যবস্থা , গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, দুই দিন আগে পাঠানো এই নোটিশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট ভাষায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংস্থা দুটির প্রশ্ন—যেখানে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হামের টিকার কভারেজ ৯৬%-৯৭% ছিল, সেখানে মন্ত্রী কেন বিশ্বমঞ্চে এমন বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ালেন? চিঠিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, আগামী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই “মিথ্যাচারের” সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিলে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য তহবিল এবং ভ্যাকসিনের বৈশ্বিক সহায়তা (Gavi) সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ল লুকোচুরি এনএসআই-এর অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সরকার এই নোটিশটিকে ধামাচাপা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তথ্যের অমিল এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এতটাই প্রবল যে, বিষয়টি আর গোপন রাখা সম্ভব হয়নি। এনএসআই-এর তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এখন খাদের কিনারে।

ডাটা যখন সত্যের সাক্ষী,  আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ (WUENIC) বলছে ভিন্ন কথা:

  • ২০১৮২০২৪: ধারাবাহিকভাবে ৯০% এর উপরে টিকাদান।
  • ২০২১ (২৬/১০): হামের ১ম ডোজ সফলভাবে প্রদান।
  • ২০২২ (/): হামের ২য় ডোজ সফলভাবে প্রদান।

দায় কার? পদত্যাগের দাবি

সাধারণ অভিভাবকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। নিজেদের সন্তানের টিকার কার্ড হাতে নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছেন—যিনি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রধান, তিনি কীভাবে এতো বড় মিথ্যাচার করতে পারেন? সচেতন মহল মনে করছে, পদবীর ইজ্জত রক্ষায় এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে এই ভয়াবহ “তথ্য সন্ত্রাসের” দায় নিয়ে অনতিবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

রাজনীতি করতে গিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতের গলার ফাঁস তৈরি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই তলব এবং এনএসআই-এর তথ্য ফাঁসের পর এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা—মন্ত্রী কি তথ্যের মাধ্যমে এই দাবির জবাব দেবেন, নাকি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সম্মান আরও ধুলোয় মিশিয়ে দেবেন?

আরও খবর

Sponsered content