নিজস্ব প্রতিবেদক 3 May 2026 , 7:03:22 297 ভিউ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে এক ভয়ংকর বিদেশি চক্রান্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তুরস্কের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন’ (এমআইটি) ভারতে অত্যন্ত গোপনে এই তৎপরতা চালাচ্ছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। এই ষড়যন্ত্রের মূল কারিগর হিসেবে মো. জুবাইদ জিম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম উঠে এসেছে, যাকে বর্তমানে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) খুঁজছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো শেখ হাসিনার নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে ভারতের ওপর দায় চাপানো। এর মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্কে ফাটল ধরানো এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করার ছক কষা হয়েছে। নেপথ্যে তুরস্ক ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর একটি বৃহত্তর আঁতাত কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুবাইদ জিম বৈধ ভিসায় ভারতে প্রবেশ করলেও ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকে অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করে তিনি নিজেকে শেখ হাসিনার ‘প্রটোকল অফিসার’, সেনাবাহিনীর মেজর এবং এনএসআইয়ের পরিচালক হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। বাস্তবে তিনি ক্যাডেট থাকাকালীন নৌবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত হন।
সূত্রের দাবি, জিমের স্ত্রীর মাধ্যমে তুরস্কের গোয়েন্দাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ স্থাপিত হয়। জিম শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও অবস্থান সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে এমআইটি-র কাছে পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অপপ্রচার ও সাইবার ফাঁদ, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি জিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক সাইবার অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি ‘ওয়াইজ-গভ’ (Wise-Gov) নামে একটি ভুয়া থিংক ট্যাংকের ওয়েবসাইট খুলে ফিশিং বা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য চুরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। এছাড়া, সায়মা ওয়াজেদের পরিবারকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটানো এবং বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভূ-রাজনৈতিক আঁতাত ও ড. ইউনূস প্রসঙ্গ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্ভাব্য যোগসাজশের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একটি চীনা প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে কোটি কোটি ডলারের টেলিযোগাযোগ চুক্তির আলোচনায় জিমকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মনে করা হচ্ছে, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের কতিপয় ইসলামি নেটওয়ার্ক মিলে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে এই নীল নকশা তৈরি করেছে।
তৎপর ভারতের এনআইএ, ভারতে বসে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এমন সরাসরি তৎপরতাকে দিল্লির নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ভারত সরকার। ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) ইতিমধ্যে জিমকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জিম এই বিশাল গোয়েন্দা জালের একটি অংশ মাত্র। এই নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন।

















