বিশেষ প্রতিবেদন : 20 February 2026 , 2:00:10 প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বিএনপি সরকারকে দেওয়া একটি অভিনন্দনবার্তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিনন্দন স্রেফ সৌজন্যমূলক নয়; বরং এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে প্রচ্ছন্ন হুমকি। আর এই পুরো পরিস্থিতির নেপথ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে আমেরিকার একটি ‘অবৈধ ও গোপন চুক্তির’ গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যা বিএনপির হাইকমান্ড তথা তারেক রহমানের উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণত নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানানো একটি নিয়মিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। তবে বর্তমান স্থিতিশীলতা নিয়ে যে বিশেষ শব্দচয়ন করা হয়েছে, তাকে ‘সফট ওয়ার্নিং’ বা নরম হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন অনেকে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তবে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থানে যেতে দ্বিধা করবে না।
নেপথ্যে ড. ইউনূসের ‘গোপন চুক্তি’
লন্ডন ও ঢাকাভিত্তিক একাধিক সূত্র দাবি করছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী মহলের সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত চুক্তি করেছেন। অভিযোগ উঠেছে যে নির্বাচন বিলম্বিত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধি। সেন্ট মার্টিন বা বিশেষ কোনো ভূ-রাজনৈতিক সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার। বিএনপির একক ক্ষমতা দখলের পথ সংকুচিত করা।
এই চুক্তির বিনিময়েই ট্রাম্প প্রশাসন ড. ইউনূসকে সমর্থন দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এই সমীকরণটিই বিএনপি এবং তারেক রহমানের জন্য ‘ডেঞ্জার জোন’ তৈরি করেছে।
বর্তকমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনের জন্য চাপ দিয়ে আসলেও, ট্রাম্পের এই অবস্থান এবং ড. ইউনূসের সাথে আমেরিকার সখ্যতা তাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। দলের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে যে, ট্রাম্পের এই ‘অভিনন্দন-হুমকি’ আসলে বিএনপির দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে একটি বড় বাধা। যদি ইউনূস সরকারের সাথে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী কোনো বোঝাপড়া হয়ে থাকে, তবে বিএনপির জন্য হুমকি আরও দীর্ঘ হতে পারে।
“রাজনীতিতে কোনো কিছুই বিনা কারণে ঘটে না। ট্রাম্পের অভিনন্দন বার্তায় যে বিশেষ শর্তের ইঙ্গিত রয়েছে, তা মূলত বিএনপিকে চাপে রাখার একটি কৌশল হতে পারে।” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
বর্তমানে বিএনপির ভেতরে অভ্যন্তরীণ বৈঠকগুলোতে এই নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য কঠোর নীতি—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও ত্যাগের ফসল হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

















