অনুসন্ধান প্রতিবেদন : 29 January 2026 , 5:44:54 প্রিন্ট সংস্করণ
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ডা. মাহমুদুল হক শুভ এবং সজল জিহাদ (জিহাদ আল ইসলাম)-এর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ডা. শুভ বর্তমানে বিএনপির হাইকমান্ডের ঘনিষ্ঠ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হলেও, তার অতীত এবং বর্তমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্যসমূহ
* ছাত্রলীগের পদ কেনাবেচা: ডা. মাহমুদুল হক শুভ ২০০৫-২০১০ মেয়াদে সজল জিহাদের মাধ্যমে জেলা ছাত্রলীগের বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক পদটি লাভ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
* স্বেচ্ছাসেবক লীগে অবস্থান: সজল জিহাদ যখন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে ছিলেন, তখন ডা. শুভকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন করা হয়।
* ব্যবসায়িক পার্টনারশিপ: বর্তমানে ডা. শুভ বিএনপির প্রভাবশালী অবস্থানে থেকে নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন মিথ্যা ও হয়রানী মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জিহাদ আল ইসলামের সাথে তার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বজায় রয়েছে।
* দ্বিমুখী ভূমিকা: ডা. শুভ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করলেও নেপথ্যে আওয়ামী লীগ নেতার সাথে মিলে ‘গ্রুপিং মাষ্টার’ হিসেবে কাজ করছেন।
এই ধরনের ‘দুমুখো’ চরিত্রের আধিপত্য দলের জন্য নিচের ঝুঁকিগুলো তৈরি করছে:
* আস্থা সংকট: ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা যখন দেখেন তাদের নেতারাই প্রতিপক্ষের সাথে গোপনে ব্যবসা করছেন, তখন দলের প্রতি আনুগত্য কমে যায়।
* সংস্কার ব্যাহত হওয়া: আওয়ামী লীগ বা বিএনপি—যেকোনো দলই যখন সংস্কারের কথা বলে, তখন এ ধরনের অনুপ্রবেশকারীরা সেই প্রক্রিয়াকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে।
* তৃণমূলের ওপর জুলুম: নিজস্ব আখের গোছাতে এরা একদিকে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করছে, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের সাথে মিলে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা রাজনীতির এই সমীকরণ ইঙ্গিত দেয় যে, আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থ এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে। ডা. শুভর মতো ব্যক্তিদের রাজনৈতিক গুরুত্ব বজায় থাকা দলের দীর্ঘমেয়াদী স্বচ্ছতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

















