সারাদেশ

ইতিহাসের সেরা নির্বাচন যেখানে ভোটারের থেকে জামাতের চিপ কমান্ডারের ওয়াকারের বাহিনী বেশি

  প্রতিনিধি 12 February 2026 , 11:26:25 প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | জনশূন্য রাজপথ থেকে

দেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় এবং ‘অভূতপূর্ব’ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। যে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোটের চেয়ে বুট আর লাঠির আওয়াজই ছিল প্রধান সুর। পরিসংখ্যানের খাতা খুললে দেখা যাচ্ছে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারের সংখ্যার চেয়ে তাঁদের পাহারা দেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সংখ্যায় পাল্লা দিয়েছে—এবং বড় ব্যবধানে জয়লাভও করেছে!

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে যেখানে ২৫ জন ভোটার যাওয়ার ‘সাহস’ করেছেন, সেখানে তাঁদের আপ্যায়নের জন্য  মোতায়েন ছিলেন প্রায় ৪০ জন বীর সেনানী। অর্থাৎ, একজন ভোটারের জন্য প্রায় ১.৬ জন নিরাপত্তা রক্ষী বরাদ্দ ছিল। গণিতবিদরা বলছেন, ভোটাররা যদি ভুল করে হারিয়েও যেতেন, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে হাত ধরে মানব-প্রাচীর তৈরি করে তাঁদের খুঁজে বের করা সময়ের ব্যাপার মাত্র ছিল।
সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে এক অদ্ভুত ‘শান্তি’ বিরাজ করছিল। লাইনের দৈর্ঘ্য ছিল দেখার মতো, তবে সেই লাইনে ভোটারদের টুপি বা শাড়ি নয়, বরং জলপাই আর খাকি পোশাকের আধিপত্যই ছিল বেশি। ভোটার লাইনের চেয়ে রাইফেল আর লাঠির সারি ছিল দীর্ঘতর। এক ভোটার বিড়বিড় করে বললেন, “নিরাপত্তা এতই বেশি যে, আমি ভোট দিতে এসেছি নাকি রিমান্ডে এসেছি—মাঝে মাঝে দ্বিধায় পড়ে যাচ্ছিলাম।”
অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টরা হাই তুলতে তুলতে দিন পার করেছেন, কারণ পাহারাদারদের ভিড়ে আসল অতিথিদের দেখাই পাওয়া ভার।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা তৃপ্তির হাসি হেসে জানান, “আমরা চেয়েছিলাম একটি ঝামেলামুক্ত নির্বাচন। যেহেতু ভোটার ছিল না, তাই ঝামেলাও ছিল না। আর নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, কারণ আমরা চাইনি ভোটাররা এসে একা বোধ করুক।”
প্রশাসনের দাবি, এটিই ছিল দেশের ইতিহাসের “সেরা নিরাপদ নির্বাচন”। কারণ, যেখানে মানুষই নেই, সেখানে সংঘাত হওয়ার ঝুঁকি যে শূন্য শতাংশ—এই বৈজ্ঞানিক সত্যটি তারা প্রমাণ করে ছেড়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য একটু ভিন্ন সুরে গাইছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য রেকর্ড। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে কমিশন ব্যর্থ হলেও, ‘নিরাপত্তা পর্যটন’ হিসেবে কেন্দ্রগুলো বেশ জমে উঠেছিল। পরবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের খুঁজে পেতে ‘ডিটেকটিভ এজেন্সি’ নিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে বলেও অনেকে ঠাট্টা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা বলছেন, নির্বাচনের নাম বদলে একে “নিরাপত্তা বাহিনীর মিলনমেলা” রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও খবর

Sponsered content