নিজস্ব প্রতিবেদক : 7 March 2026 , 2:33:07 প্রিন্ট সংস্করণ
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) যানবাহনভেদে তেল বিক্রির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ডিজেল এবং অকটেনের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে
দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুদ রয়েছে প্রায় ১৪ দিনের এবং অকটেনের মজুদ রয়েছে প্রায় ২৫-৩০ দিনের।
বিপিসি এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয় কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারি রোধে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে।
আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনা (Panic Buying) বন্ধ করতে এই নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
যানবাহনভেদে জ্বালানি সরবরাহের নতুন সীমা
বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিন একটি যানবাহন সর্বোচ্চ নিচের পরিমাণ অনুযায়ী তেল নিতে।
মোটরসাইকেল অকটেন/পেট্রোল ০২ লিটার, প্রাইভেটকার অকটেন/পেট্রোল ১০ লিটার, এসইউভি/জিপ/মাইক্রোবাস, অকটেন/পেট্রোল ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ/লোকাল বাস | ডিজেল | ৭০ থেকে ৮০ লিটার, দূরপাল্লার বাস ও ভারী ট্রাক | ডিজেল | ২০০ থেকে ২২০ লিটার | ভোক্তা ও ডিলারদের জন্য ৫টি জরুরি শর্ত
জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিম্নলিখিত নিয়মগুলো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:
ক্রয় রশিদ প্রদান: প্রতিটি বিক্রির বিপরীতে তেলের ধরণ, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রশিদ দিতে হবে।
পূর্ববর্তী রশিদ যাচাই: পরবর্তীবার তেল নিতে হলে আগের বার কেনা তেলের মূল রশিদ বা বিল জমা দিতে হবে।
ডিপোতে তথ্য প্রদান: ফিলিং স্টেশনগুলো তাদের মজুত ও প্রতিদিনের বিক্রয় তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জমা দিয়ে তবেই নতুন তেল উত্তোলন করতে পারবে।
অতিরিক্ত সরবরাহ নিষিদ্ধ: ডিলাররা কোনোভাবেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি তেল কোনো যানবাহনকে দিতে পারবেন না।
কঠোর পর্যবেক্ষণ: তেল বিপণন কোম্পানিগুলো (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) ডিলারদের সরবরাহ দেওয়ার আগে তাদের বিক্রয় তথ্য গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ আসার অপেক্ষায় রয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার এবং জ্বালানি সাশ্রয় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
















