অনুসন্ধান প্রতিবেদন : 18 March 2026 , 7:05:05 প্রিন্ট সংস্করণ
কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিনাকারণে জেলহাজতে প্রেরণ এবং ‘মামলা বাণিজ্যের’ মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফার বিরুদ্ধে।
তিনি পেকুয়া থানায় যোগদান করেন ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে। বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত এই কর্মকর্তার অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে এখন সর্বত্র চলছে তোলপাড়।
পেকুয়ায় ত্রাসের রাজত্ব ও অর্থলিপ্সা অভিযোগ রয়েছে, পেকুয়া থানায় দায়িত্ব পালনকালে সিরাজুল মোস্তফা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক করে কারাগারে পাঠানো ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। তবে এর নেপথ্যে ছিল এক বিশাল ‘মামলা সিন্ডিকেট’। মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, পেকুয়ায় তার নাম শুনলেই আতঙ্কে শিউরে উঠতেন সাধারণ মানুষ।
সিরাজুল মোস্তফার শেকড় ও পরিচিতি, মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার সে মরহুম আবদুল মান্নানের ছেলে।
তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, সে চুয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের হাজী মুহসিন কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিং বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিএনপি আমল থেকে বর্তমান: এক সুচতুর ক্যারিয়ার
২০০৫ সালে বিএনপির শাসন আমলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে রাঙ্গামাটির লংগদু থানায় তার কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর তিনি রাঙ্গামাটি কোতোয়ালী, নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ, চাটখিল, মেহেরপুরের গাংনী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি), চাঁদপুর সদর, পিবিআই নোয়াখালী এবং কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন।
কুমিল্লায় আগমন করেন ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তার রহস্যময় ‘আশীর্বাদ’, বর্তমানে এই বিতর্কিত কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানায় কর্মরত। এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশীর্বাদে তিনি এই জেলায় বদলি হয়ে এসেছেন। বিশেষ মহলের ইশারায় এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তার এই পদায়ন নিয়ে খোদ পুলিশ বাহিনীর ভেতরেই কানাঘুষা চলছে।
জনমনে ঘৃণা ও বিচার দাবি, পেকুয়ার বাসিন্দারা তাকে আজও এক ‘অভিশপ্ত নাম’ হিসেবে স্মরণ করেন। স্থানীয়দের দাবি, তার আমলের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। নেত্রী তাকে স্মরণ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দলীয় লেজুড়বৃত্তি এবং অর্থলিপ্সা পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

















