ডেস্ক রিপোর্ট : 20 March 2026 , 7:38:13 প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে যখন ঈদের প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামীকাল সারা দেশে যে ঈদুল ফিতর উদযাপনের কথা রয়েছে, তা তারা মানেন না।
আজ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আমির শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন, রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিপ্লবের অংশ হিসেবে এবার রোজার সংখ্যা হবে ৩৬টি। তার মতে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যেমন ‘জুলাই ৩৬’ তারিখের একটি বিশেষ প্রতীকী তাৎপর্য ছিল, তেমনি এবারের রমজানকেও সেই ত্যাগের মহিমায় ৩৬ দিনে পূর্ণ করতে হবে।
৩৬ রোজার ফর্মুলা, জামায়াত আমির জানান, সাধারণ ২৯ বা ৩০ রোজায় এবার সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে ৩৬টি রোজা পূর্ণ করার পরই কেবল নতুন ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
জুলাই ৩৬-এর আদলে সিদ্ধান্ত, গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ক্যালেন্ডারকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যদি জুলাইয়ের ক্যালেন্ডারকে টেনে নিতে পারি, তবে রমজান কেন নয়? আত্মশুদ্ধির লড়াই ৩৬ দিনই চলবে।”
আইনি ও ধর্মীয় বিতর্ক, এই ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ওলামা মাশায়েখদের একাংশ বলছেন, চন্দ্র মাস অনুযায়ী ২৯ বা ৩০ দিনের বাইরে রোজা রাখার কোনো ধর্মীয় বিধান নেই। তবে দলীয় সমর্থকদের দাবি, এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ ও বিশেষ সংস্কারের ডাক।
এদিকে, জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে যথারীতি আগামীকাল ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। তবে জামায়াত আমিরের এই ‘৩৬ রোজা’ ও ‘নতুন ঈদের তারিখ’ ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনমনে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা এই ঘোষণাকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্ট’ এবং ‘জুলাই বিপ্লবের অদ্ভুত সমীকরণ’ হিসেবে দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, জামায়াতের এই নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী তাদের কর্মীরা কাল ঈদ বর্জন করেন কি না।

















