নিজস্ব প্রতিবেদক: 30 March 2026 , 8:14:16 প্রিন্ট সংস্করণ
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া কুমিল্লার আখতারুজ্জামান রিপন এখন ভোলবদল করে বিএনপিতে ভিড়েছেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর গা ঢাকা দিলেও বর্তমানে বিএনপির স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে তিনি এলাকায় ফিরে বিএনপি থেকে উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী আমলে ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের বাসিন্দা আখতারুজ্জামান রিপন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছিলেন দলটির একনিষ্ঠ কর্মী। সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা কাজে লাগিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে তিনি কামিয়েছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অংকের লোন নিয়ে তিনি বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন। বিভিন্ন নেতার সাথে তার ঘনিষ্ঠতার একাধিক ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে।
৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রিপন আত্মগোপনে চলে যান। তবে দীর্ঘ সময় আড়ালে থাকার পর কৌশল পরিবর্তন করেন এই ‘সুবিধাবাদী’ নেতা। বর্তমানে তিনি বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সাথে যোগসাজশ করে এলাকায় পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, নিজেকে রক্ষা করতে তিনি এখন ভোলবদল করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
নেতাকর্মীদের পাশে নেই, তবু চাই পদ-পদবি, আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে রিপনকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, দল ক্ষমতায় থাকাকালীন রিপন সব সুযোগ-সুবিধা নিলেও বিপদের দিনে কাউকেও আইনি সহায়তা দেননি। ছাত্রলীগ বা অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া তো দূরের কথা, নিজের পিঠ বাঁচাতে এখন দলই বদলে ফেলেছেন।
তৃণমূলের কর্মীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দল পুনর্গঠিত হলেও রিপনের মতো ‘হাইব্রিড’ ও সুবিধাবাদীদের আর ঠাঁই দেওয়া হবে না।
বিএনপি নেতার ‘আশ্রয়’, কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এই আলোচনার সূত্র ধরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ মানুষ ও ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মীরা বলছেন, এসব সুবিধাবাদীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
তৃণমূলের বক্তব্যে তারা বলেন “যারা সুসময়ে মধু খায় আর দুঃসময়ে দল ত্যাগ করে, তারা কোনো দলেরই বন্ধু নয়। এদের চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করা এখন সময়ের দাবি।”
















