জাতীয়

“৮ বছর টিকা দেওয়া হয়নি”: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তথ্য বিভ্রাট, কী বলছে WHO-UNICEF-এর ডাটা?

  নিজস্ব প্রতিবেদক : 31 March 2026 , 10:36:04 38 ভিউ প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে “গত ৮ বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি” মর্মে যে বক্তব্যটি সামনে এসেছে, তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের নিজস্ব ডাটা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই বক্তব্যের সাথে বাস্তব চিত্রের বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। সাধারণ নাগরিকরা এখন রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তথ্যের সঠিক ব্যাখ্যা দাবি করছেন।

পরিসংখ্যানে হামের টিকা (২০১৮–২০২৪)

বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (EPI) এবং WHO-UNICEF-এর যৌথ প্রতিবেদন (WUENIC) অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে হাম ও রুবেলা (MR) টিকার কভারেজ কখনোই ৯০ শতাংশের নিচে নামেনি। নিচে বিগত বছরগুলোর কভারেজ রেট তুলে ধরা হলো:

বছর টিকার কভারেজ (শতকরা হার)
২০১৮ ৯৭%
২০১৯ ৯৭%
২০২০ ৯৭%
২০২১ ৯৭%
২০২২ ৯৬%
২০২৩ ৯৬%
২০২৪ ৯৬%

মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবির বিপরীতে সাধারণ মানুষ তাদের সন্তানদের টিকাদান কার্ড প্রদর্শন করছেন। দেখা যাচ্ছে, ২০২১ বা ২০২২ সালেও শিশুরা নিয়মিতভাবে হামের টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছে। একজন সচেতন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমার সন্তান ২০২১ এবং ২০২২ সালে দুটি ডোজই পেয়েছে। তাহলে ৮ বছর টিকা বন্ধ ছিল—এই তথ্য কোথা থেকে এল? পদমর্যাদার সাথে তথ্যের সত্যতা থাকা জরুরি।”

ডাটা বনাম বক্তব্য: গরমিল যেখানে

১. ধারাবাহিকতা: ডাটায় দেখা যাচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি একটি চলমান প্রক্রিয়া ছিল। এমনকি করোনাকালীন সংকটেও টিকার হার ৯৭ শতাংশ বজায় ছিল।

২. মিশন মোড ক্যাম্পেইন: সাধারণত নিয়মিত টিকাদানের বাইরেও বড় ধরনের কোনো প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিশেষ ক্যাম্পেইন করা হয়। নিয়মিত টিকাদান আর বিশেষ ক্যাম্পেইনকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

৩. ইজ্জত ও দায়বদ্ধতা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গার শীর্ষ পর্যায় থেকে দেওয়া তথ্য যদি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তথ্যের (WHO/UNICEF) বিপরীত হয়, তবে তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান দিয়ে নীতি নির্ধারণ বা জনমত গঠন দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমান সময়ে যখন ডিজিটাল ডাটা সবার হাতের নাগালে, তখন “মুখস্থ কথা” না বলে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলাই কাম্য। সচেতন নাগরিকদের দাবি—রাজনীতি নয়, তথ্যের জবাব তথ্যের মাধ্যমেই নিশ্চিত করতে হবে।

আরও খবর

Sponsered content

পাম্পে সমন্বয়ক পরিচয় দিতে গিয়ে, তেল নেওয়ার জন্য গুন্ডামি, পাম্পের কর্মচারীদের গণপিটুনিতে,  বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য নিহত 

পানির নিচে চট্টগ্রাম: বানভাসি মানুষের জন্য ‘নৌকা কার্ড’ ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তাকায় তাকায় দেখলাম দেশটা ধ্বংস হলো-জুলাইয়ে রাস্তায় নামাই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল! অভিনেত্রী আযমেরি হক বাধন

নারী ক্ষমতায়নের রূপকার: কতটা সফল ছিলেন শেখ হাসিনা? ২য় বিয়ে করতে ১ম স্ত্রীর মতামতের প্রয়োজন নেই, নারীদের মতামতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো ইউউনূস 

আট বছর আগে ভ্যাকসিন দেয়া হয়নাই বলে দেড় বছরের শিশুরা এখন মা রা যাচ্ছে বলে দাবি করলেন এই বোকাচোদা

সমঝোতা না হওয়ায় ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তথ্য ফাঁস করলেন নাহিদ