আর এস এস ফিড: 30 May 2026 , 10:18:51 91 ভিউ প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক জানিয়েছেন, আসিফ ও হাসনাত নামের দুই ব্যক্তি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই তহবিল থেকে মোট ২৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে আসিফ ১৫ কোটি এবং হাসনাত ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের হিসাব নিরীক্ষা (অডিট) করতে গিয়ে এই বিশাল আর্থিক অসংগতির বিষয়টি ধরা পড়ে। জেলা পরিষদ প্রশাসক জানান, কোনো বৈধ অনুমোদন, কার্যাদেশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে। নথিপত্রে দেখা যায়, সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে আসিফের নামে ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাতের নামে ১০ কোটি টাকা রাজস্ব খাত থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং অস্তিত্বহীন প্রকল্পের নাম দেখিয়ে ধাপে ধাপে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। রাজস্ব তহবিলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত খাত থেকে এত বড় অঙ্কের অর্থ কীভাবে লোপাট হলো, তা নিয়ে খোদ জেলা পরিষদের ভেতরেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই অর্থ উত্তোলনের পেছনে জেলা পরিষদের ভেতরের কোনো অসাধু চক্র বা কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ দুর্নীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যেই একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, “জনগণের করের টাকা এভাবে কাউকে লুট করতে দেওয়া হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরপরই আসিফ ও হাসনাতসহ এই জালিয়াতির সাথে জড়িত সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এবং থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।”
এদিকে, এত বড় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর থেকে আসিফ ও হাসনাত উভয়েই লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন। তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।
এই ঘটনার পর জেলা পরিষদ কার্যালয়ে নিরাপত্তা ও নথিপত্রের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝেও এই অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

















