নিজস্ব প্রতিবেদক: 7 April 2026 , 12:32:21 প্রিন্ট সংস্করণ
ঝিনাইদহ ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনে এক চরম অস্বস্তিকর ও গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, অনৈতিক প্রস্তাব এবং তার মতের বাইরে গেলেই কর্মকর্তাদের বদলি করার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হোসনে আরাকে বিধিবহির্ভূতভাবে বদলি করার ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শাস্তিমূলক বদলি, ভুক্তভোগী ইউএনও হোসনে আরার অভিযোগ, জেলা প্রশাসক তাকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব বা ‘কুপ্রস্তাব’ দিয়ে আসছিলেন। সেই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এবং তার অন্যায্য নির্দেশের বিরোধিতা করায় তাকে অন্যায়ভাবে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
অবৈধ ইটভাটা ও মাসোহারা বাণিজ্য: ইউএনও হোসনে আরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসকের আর্থিক লালসার কারণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন,
যেসব খাত থেকে জেলা প্রশাসক নিয়মিত মাসোহারা বা টাকা পান, সেখানে কোনো প্রকার মোবাইল কোর্ট বা অভিযান চালাতে নিষেধ করেন।
অবৈধ ইটভাটাগুলো থেকে নিয়মিত টাকা ডিসির পকেটে যাচ্ছে।
জনস্বার্থে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালাতে গেলে ডিসি তাতে বাধা প্রদান করেন। এর ফলে এলাকাবাসী প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছে, যার দায়ভার ইউএনও হিসেবে তাকেই নিতে হচ্ছে।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ইউএনও হোসনে আরা জানান, “আমার দুটি ছোট বাচ্চা রয়েছে। একজন মা এবং সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমি নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে চেয়েছি। কিন্তু জেলা প্রশাসকের অনৈতিক চাপের মুখে উপজেলা চালাতে আমি হিমশিম খাচ্ছি। তার কথা না শোনায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আমাকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে।”
অস্থিরতা জেলা প্রশাসনে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান জেলা প্রশাসকের সার্থান্বেষী আচরণের কারণে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ডিসির সিদ্ধান্তের বাইরে গেলেই কর্মকর্তাদের হেনস্তা ও বদলির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাহমুদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দেশজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইউএনওর সেই অডিও ক্লিপ এবং প্রশাসনের এই অস্থিরতা। সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
















